sponsor

sponsor
Theme images by kelvinjay. Powered by Blogger.

Business

footer

Technology

Life & style

Games

Sports

Fashion

রোনালদো রিয়াল ছাড়তে চান, রিয়ালও তাঁর দাবি মানতে রাজি!

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ ও ‘এএস’ জানিয়েছে, রিয়ালে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মঙ্গলবার তাঁর এজেন্টে হোর্হে মেন্দেজের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। রোনালদো তাঁর নতুন চুক্তিতে যে অঙ্কের পারিশ্রমিক চান, রিয়াল সভাপতির তাতে খুব একটা সম্মতি নেই। এখন সে কারণেই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রিয়াল ছাড়তে বদ্ধপরিকর।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মাদ্রিদ ছাড়ার গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। প্রতি মৌসুম শেষেই গুঞ্জনটা একবার করে ডালপালা ছড়ায়। কিন্তু এবার বোধ হয় গুঞ্জনটা সত্যিই হতে চলছে। রোনালদো সত্যিই রিয়াল ছাড়তে যাচ্ছেন!
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ ও ‘এএস’ জানিয়েছে, রিয়ালে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মঙ্গলবার তাঁর এজেন্ট হোর্হে মেন্দেজের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। আলোচনা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। রোনালদো তাঁর নতুন চুক্তিতে যে অঙ্কের পারিশ্রমিক চান, রিয়ালের তাতে খুব একটা সম্মতি নেই। আর এ কারণেই ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মাদ্রিদ ছাড়তে বদ্ধপরিকর। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘রেকর্ড’ জানিয়েছে, তাঁর (রোনালদো) এ সিদ্ধান্ত নাকি ‘অপরিবর্তনীয়’।

বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির বার্ষিক বেতন ৫ কোটি ইউরো। পিএসজিতে নেইমার বছরে পেয়ে থাকেন ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো। রিয়ালে রোনালদোর বেতন তাঁদের চেয়ে বেশ কম। বছরে ২ কোটি ১০ লাখ ইউরো পেয়ে থাকেন তিনি। নতুন চুক্তিতে রোনালদো বেশ আগে থেকেই পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবি করে আসছিলেন। অন্তত মেসি-নেইমারের সমান একটা অঙ্কের দাবি ছিল তাঁর।

গত বছর কার্ডিফে রিয়াল ১২তম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের পরপরই ‘মার্কা’ জানিয়েছিল, সম্ভাব্য নতুন চুক্তিতে রোনালদোর পারিশ্রমিক বাড়ানোর কথা দিয়েছেন পেরেজ। এমনকি রিয়ালে রোনালদোর ঘনিষ্ঠজনদের সূত্র মারফত সংবাদমাধ্যমটি এটাও জানিয়ে দেয়, রোনালদোর পারিশ্রমিক বাড়িয়ে বছরে ৩ কোটি ইউরো করার প্রস্তাব দিয়েছেন রিয়াল সভাপতি। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে রোনালদোর পারফরম্যান্স পড়তির দিকে নেমে গেলে তিনি ‘ইউ টার্ন’ করে ফেলেন।
জানুয়ারিতেই ফর্ম ফিরে পেতে শুরু করেন রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজি ও জুভেন্টাসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দুটি গোলও করেন। সে কারণেই দুই মাস আগে রোনালদোর নতুন চুক্তির ফাইলপত্র খুলে বসে রিয়াল। বার্ষিক ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে অঙ্কটা ৩ কোটি টপকে যেত। কিন্তু প্রস্তাবটা অহমে লাগে রোনালদোর। আর তাই চুক্তি নবায়নের ব্যাপারটি তিনি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত তুলে রাখার অনুরোধ করেন। এদিকে রিয়াল তখন নেইমারের পিছু ছুটছিল, বছরে ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো বেতনে তাঁকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছিলেন পেরেজ।

মঙ্গলবারের বৈঠকে রোনালদোকে সব মিলিয়ে বছরে ৩ কোটি ইউরো পারিশ্রমিকের চুক্তিপত্র দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল রিয়াল। কিন্তু প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। মার্কা জানিয়েছে, প্রস্তাবটি রোনালদোর আশানুরূপ হয়নি। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৩তম শিরোপা জিতলেও রিয়াল যে রোনালদোর ওপর খুব প্রসন্ন, তা কিন্তু নয়। কিয়েভের ফাইনাল জয়ের পর রোনালদো মাদ্রিদ ছাড়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্য রিয়ালের নীতিনির্ধারকদের ভালোই চটিয়েছে।
মার্কা জানিয়েছে, রোনালদো বিশ্বাস করেন, রিয়াল তাঁকে ছেড়ে দিতে চায়। আর তাই গত পাঁচ বছরে ক্লাবের চারবার ইউরোপসেরা হওয়ার পেছনে বড় অবদান রাখার পরও তারা রোনালদোকে বিশেষ কোনো সুবিধা দিতে চাচ্ছে না। ঠিক এ কারণেই রিয়াল যেন তাঁকে ছেড়ে দেয়, সেই প্রস্তাবই করেছেন রোনালদো। নয় বছরের রিয়াল-ক্যারিয়ারে এই প্রথমবারের মতো তিনি ক্লাব ছাড়ার প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ জবাব পেয়েছেন। অর্থাৎ রোনালদো ইচ্ছে হলে রিয়াল ছেড়ে যেতে পারেন।
মান-অভিমানের এই খেলার নিষ্পত্তিটা কীভাবে হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আপাতত রিয়ালে রোনালদোর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২১ সাল পর্যন্ত এবং তাঁর ‘রিলিজ ক্লজ’ ১০০ কোটি ইউরো।

মেসির মুখে নেইমার থাকলেও নেই রোনালদো

রোনালদো নেই মেসির তালিকায়! বিশ্বকাপে আলো ছড়াবেন, এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে একটা তালিকা করতে বলা হয়েছিল মেসিকে। তিনি সেখানে নেইমারকে রাখলেও রাখেননি রোনালদোকে।
লিওনেল মেসি একবারের জন্যও বললেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কথা! তবে তিনি নেইমারের কথা বলেছেন। এবারের বিশ্বকাপে কোন কোন তারকার ওপর দর্শকদের নজর রাখা উচিত, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোর কথা না বললেও নেইমারকে কিন্তু তিনি ঠিকই তাঁর তালিকায় রেখেছেন।

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য মিরর আর্জেন্টাইন তারকাকে বলেছিল, এবারের বিশ্বকাপের আলাদা করে নজর কাড়বেন, এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে একটা তালিকা বানাতে। সেখানে তিনি নিজ দেশ আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড়কে রাখেননি। আটজনের একটা তালিকা বানিয়েছেন তিনি। সেই তালিকায় আছেন বেলজিয়ামের দুই তারকা—এডেন হ্যাজার্ড আর কেভিন ডি ব্রুইনা।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের দুই তারকাকে রেখেছেন তিনি তাঁর তালিকা। এঁদের একজন তাঁর সাবেক বার্সা-সতীর্থ নেইমার, অপরজন সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে লিভারপুল থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া কুতিনহো। মেসি তাঁর এই তালিকায় সদ্যই বার্সেলোনাকে বিদায় বলা তাঁর দীর্ঘদিনের সতীর্থ ইনিয়েস্তাকে রেখেছেন। ফ্রান্সের আতোয়ান গ্রিজমান ও এমবাপ্পেও বিশ্বকাপে আলো ছড়াবেন বলে মত আর্জেন্টাইন তারকার।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির কোনো ফুটবলারকে তিনি তাঁর এই তালিকায় রাখেননি। কেন রাখেননি সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘গোটা দলটাই তো দুর্দান্ত। এই দলটার আলাদা করে কোনো তারকা নেই।’

রেকর্ডই বলছে ভারতকে হারানো কত বড় অর্জন!

মেয়েদের এশিয়া কাপে কাল ভারতকে হারিয়েছেন রুমানা-ফারজানারা। এই জয়ের পথে বাংলাদেশ গড়েছে বেশ কিছু রেকর্ড ও কীর্তি
জয়টা ছেলেরা পেলে এতক্ষণে দেশজুড়ে উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়ত। মেয়েরা জিতেছে বলেই কি সেভাবে সাড়াশব্দ নেই? তাতে অবশ্য জয়ের গৌরব এতটুকু ক্ষুণ্ন হচ্ছে না। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে যে কাজ সাকিব-তামিমরা কখনো করতে পারেননি ভারতকে হারিয়ে সেটাই করে দেখিয়েছে আমাদের মেয়েরা। গর্বে বুকের ছাতি চওড়া না হয়ে উপায় আছে!
না উপায় নেই। বরং মেয়েরা এই এশিয়া কাপে গর্বের পাল্লাটা ভারী করেই চলছেন। আজ থাইল্যান্ডকে তাঁরা হারিয়েছেন দোর্দণ্ডপ্রতাপে। টস জিতে থাইল্যান্ডের মেয়েদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে মাত্র ৬০/৮ রানে থামিয়েছেন সালমা খাতুন-নাহিদা আক্তাররা। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রানে ২ উইকেট নেন অধিনায়ক সালমা। তাড়া করতে নেমে মেয়েরা ৯ উইকেটে জিতেছে ৫৩ বল হাতে রেখে। এখন সামনে মালয়েশিয়া, তাদের বিপক্ষে জিতলেই ফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ।
এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে সালমা খাতুনের দল। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ছেলেদের ও মেয়েদের দল মিলিয়ে এটাই প্রথম জয় বাংলাদেশের। শুধু কি তাই, মেয়েদের এশিয়া কাপে টানা ৩৪ ম্যাচ জয়ের পর এটাই প্রথম হার শিরোপাধারী ভারতীয় মেয়েদের। পাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো দল যা কখনো করতে পারেনি রুমানা-ফারজানারা কাল কুয়ালালামপুরে সেটাই করে দেখিয়েছেন। দুর্দান্ত এই জয় তুলে নেওয়ার পথে বেশ কিছু কীর্তিও গড়েছেন রুমানারা। আসুন দেখে নেই সেসব মাইলফলক—
আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে ১৪২ রান তুলেছিল ভারত। তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ২ বল হাতে রেখে জিতেছে। টি-টোয়েন্টিতে এটাই বাংলাদেশের মেয়েদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নজির। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে এই প্রথম এক শ রানের বেশি করে জয়ের মুখ দেখলেন মেয়েরা। এর আগে এই এশিয়া কাপেই পাকিস্তানের ৫ উইকেটে ৯৫ রান তাড়া করে জিতেছিলেন সালমারা। তার আগে ২০১২ সালে আইরিশ মেয়েদের ঘরের মাঠে ৪ উইকেটে ৯২ রান তাড়া করে জিতেছেন মেয়েরা।
টি-টোয়েন্টিতে এটাই বাংলাদেশের মেয়েদের সর্বোচ্চ রানের (১৪২/৩) ইনিংস। এই পথে রুমানারা ভেঙেছেন গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রোটিয়া মেয়েদের বিপক্ষে গড়া ৫ উইকেটে ১৩৭ রানের মাইলফলক। শুধু তাই নয়, ভারতের বিপক্ষে জয়ের এই ম্যাচেই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন ফারজানা হক (৪৬ বলে ৫২)। এই পথে তিনি ভাঙলেন গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে শামীমা সুলতানার ৫০ রানের ইনিংসের মাইলফলক। উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সর্বসাকল্যে এ দুটোই ফিফটি রানের ইনিংস।
ভারতের বিপক্ষে কালকের জয়ে রুমানা আহমেদের অবদানও কম নয়। বল হাতে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে খেলেছেন ৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস। ম্যাচসেরাও তিনি। চতুর্থ উইকেটে রুমানার সঙ্গে তাঁর অপরাজিত ৯৩ রানের জুটিটাই জয় এনে দেয় বাংলাদেশকে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের
মেয়েদের এটাই সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগে এই সংস্করণে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটিতেও জড়িয়ে আছে রুমানার নাম।
পাঁচ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েদের বিপক্ষে আয়েশা-রুমানা মিলে ওপেনিং জুটিতে ৮১ রান তুলেছিলেন। কালকের আগ পর্যন্ত এত দিন এটাই ছিল টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। এখানে বলে রাখা ভালো, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ছেলেদের সর্বোচ্চ রানের জুটি কিন্তু খুব বড় নয়। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-মাহমুদউল্লাহ ১৩২ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছিলেন। সেখানে রুমানা-ফারজানার অপরাজিত ৯৩ রানের জুটি কিন্তু একেবারে কম নয়।
আসলে তাঁদের এই জুটিই নতুন এক দ্বার খুলে দিয়েছে। ২০০৪ সালে মেয়েদের এশিয়া কাপ চালুর পর শিরোপাটা সব সময় ভারতীয় মেয়েদের হাতেই উঠেছে। এমন প্রতাপশালী একটা দলকে টুর্নামেন্টের প্রথম হার উপহার দেওয়া যতটা চমক তার চেয়েও বেশি সামর্থ্যের প্রমাণ। রুমানা আহমেদের চোখে এই জয় তাই স্বপ্ন সত্যি হয়ে ধরা দিয়েছে। ভারতকে হারিয়ে হোটেলে ফেরার পর তাঁদের অভ্যর্থনা জানিয়েছে পাকিস্তানের মেয়েরা।
অথচ আগের ম্যাচেই বিসমাহ মারুফদের হারিয়েছেন রুমানারা, ‘আমরা আগের দিন (পাকিস্তান) তাদের হারালাম। আর আজ ওরা আমাদের অভিনন্দন জানাচ্ছে ভারতকে হারানোর জন্য। এই জয় নিঃসন্দেহে আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে স্মরণীয়।’ তবে রুমানার কাছে ভারতকে হারানোর মাহাত্ম্যটা অন্য জায়গায়, ‘স্বপ্ন ছিল ভারতের মতো দলকে হারানোর কাছাকাছি পৌঁছাব। কিন্তু তাঁদের হারিয়েছি, এটা এখন বাস্তবতা।’

সাব্বির, মোসাদ্দেক, রুবেলের বদলে দলে আরিফুল, মিরাজ ও জায়েদ

দেরাদুনে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ।
দেরাদুনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ। দলে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাদ পড়েছেন সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন ও রুবেল হোসেন। এই তিন খেলোয়াড়ের বদলে দলে ঢুকেছেন আরিফুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজ ও আবু জায়েদ।
এর আগে দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ৪৫ রানে জেতে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে আসগর স্ট্যানিকজাইয়ের দল। আজকের ম্যাচটা জিতলেই বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করবে আফগানিস্তান। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হার এড়াতে এই ম্যাচটি জিততেই হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশ দল : তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, আবু জায়েদ, আবু হায়দার, নাজমুল ইসলাম।

বাংলাদেশের নতুন কোচের বেতন হবে কত?


স্টিভ রোডসের সঙ্গে সবকিছু চূড়ান্ত। ২০ জুন থেকে তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের। বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, হাথুরুর মতোই স্বাধীনতা পাবেন রোডস। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা কি আগের কোচের মতোই পাবেন?
অবশেষে কোচ পেয়েছে বাংলাদেশ। বিসিবি সভাপতি আজ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ স্টিভ রোডস আগের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের মতোই স্বাধীনতা পাবেন। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা কি আগের কোচের মতোই পাবেন?
নতুন কোচ কেমন সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তাঁর ছুটিছাটার ধরন কেমন হবে, মাসে বা বছরে বেতনই-বা কত—এসব নিয়ে নাজমুল হাসান কিছু না বললেও বিসিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে, রোডসের বেতন হাথুরুর সমান হচ্ছে না। হাথুরু মাসে পেতেন ২৫ হাজার ৮০০ ডলার, টাকায় যেটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার। বছরে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রোডস বেতন পাবেন হাথুরুর চেয়ে ২০-৩০ শতাংশ কম। তার মানে বাংলাদেশের নতুন ইংলিশ কোচ মাসে পেতে যাচ্ছেন ১৫-১৭ লাখ, বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা। এখন হাথুরুর সমান না হলেও বাংলাদেশ দলে ভালো খেললে রোডসের বেতন যে আগের কোচকেও ছাড়িয়ে যাবে না, সেটি কে জানে!

বিসিবির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বছরে ৪০ দিন ছুটি পাওয়ার কথা ছিল হাথুরুর। শেষ দুই বছরে শ্রীলঙ্কান কোচ ছুটি কাটান ২২০ দিন! রোডস বছরে কত দিন ছুটি পাবেন, সেটি নিয়ে অবশ্য বিসিবির সঙ্গে এখনো আলোচনা হয়নি।
বাংলাদেশে আসা বিদেশি কোচিং স্টাফদের থাকার ব্যবস্থা দুই রকম। কেউ গুলশান-বনানীতে ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন, কেউ আবার হোটেলে থাকেন। তাঁরা যেখানেই থাকুন, ভাড়াটা বিসিবিই দিয়ে থাকে। রোডসের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হবে না। উস্টারশায়ারের এই কোচ বিশ্বমানের ইনস্যুরেন্স পাবেন, যেটি বিশ্বের বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় কিংবা কোচ পেয়ে থাকেন। চালকসহ ২৪ ঘণ্টা গাড়ি থাকবে তাঁর জন্য। শুধু নিজেই নন, কোচের পরিবারের জন্য থাকবে ভ্রমণভাতা। সঙ্গে যোগ হবে বোনাস। সাধারণত বোনাস তো আছেই, থাকবে সফর, ম্যাচ, পারফরম্যান্স বোনাসও। কখনো কখনো সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীও থাকবে, তবে সেটি নির্ভর করছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।

মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ, এটুকুই সান্ত্বনা




উনিশতম ওভার শেষ হলে ভাবতে বসলাম, কোন খবরটা বড় হতে চলেছে। বাংলাদেশের জয় না রশিদের উইকেট না পাওয়া? ভাবনার জনক দুই বঙ্গসন্তান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। উনিশতম ওভারে মুশফিকের সামনে এলেন জানাত। ১২ বলে দরকার ৩০ রান। শেষ ওভারটা আবার রশিদের, যিনি তখনো কোনো উইকেট পাননি। কে জানত, আগ্নেয়গিরির লাভা বের হতে চলেছে ওই দুই ওভারে? হতোদ্যম বাঙালির মুখোজ্জ্বলের দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়েছেন ছোটখাটো চেহারার মুশফিকুর?
জানাতের প্রথম পাঁচটা বল বাউন্ডারি পাঠালেন তিনি চরম ঔদ্ধত্যে। এক একটি চার যেন একেকজন সমালোচনাকারীর ঠিকানা লেখা প্রতিবাদপত্র। একুশটা রান নিয়ে রাখলেন শেষ ওভারের জন্য রাখলেন মাত্র ৯টা রান। রশিদের জুজু কোন জাদুতে তখন অন্তর্হিত। ৮৪ রানের জুটি গড়ে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ তখন সিংহ বিক্রমে চলাফেরা করছেন। ৬ বলে ৯ রান। পারব আমরা পারব; এমন একটা বিশ্বাস মুশফিকেরা ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রেস বক্সের বঙ্গজ সাংবাদিকদের মধ্যেও। অপমানের জ্বালা কিছুটা হলেও একটু মিটবে। এই ভাবনায় ভর দিয়ে মনকে আশ্বস্ত করছি এই বলে যে রশিদের ওভারেই জয় ছিনিয়ে নিলে সেটাই যেন হবে ক্ষতের মধুর প্রলেপ। অথচ সেই ভাবনা ক্ষণস্থায়ী হবে কে ভেবেছিল? রশিদের প্রথম বলেই সুইপ করে ফিরে গেলেন মুশফিক। নামলেন আরিফুল। পাঁচ বলে ৯। হয়, হয়, খুব হয়। প্রবোধ দিচ্ছি আমরা মনকে। চার বলে ৮। এ যেন হাঁটি হাঁটি পা পা এগোনো। দুই বলে ৫। শেষ বলে একটা চার। কে বলে হয় না? শেষ বলে তো ছয়ও হয়?
রশিদের শেষ বলটা আরিফুল লং অনে তুলে দিলেন। চার নয়, অবধারিত ছয় হতে চলেছে। লং অনের একটু স্কয়ারে দাঁড়ানো সফিউল্লা বলটা ধরে ভেতরে ফেললেন। মনে হলো বলটা যেন বাউন্ডারির দড়িতে লাগল। মাহমুদউল্লাহ ও আরিফুল পড়ি মরি করে দু রান নিয়ে তৃতীয়টির দৌড় দিয়েছেন। সেটি কমপ্লিট হলেই টাই। গোটা স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে উঠেছে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়ের খোঁজে। কিন্তু শেষ হলো না স্বপ্নময় সেই ভাবনা। রশিদের শেষ ওভারেই সব আশা শেষ হয়ে গেল। তৃতীয় ম্যাচেও হারতে হলো বাংলাদেশকে। তিনটি রান আউট শেষ করে দিল সব আশা।
গত পাঁচ দিন ধরেই প্রবল ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল, অথচ সেই এক তারিখের পর আর একবারের জন্যও দেরাদুনে ঝড় উঠল না। বৃহস্পতিবার শুরু থেকে কেন যেন মনে হচ্ছিল, বঙ্গজ বাঘেরা শেষ ম্যাচে ঝড় তুলে আহত অহংবোধে কিছুটা প্রলেপ দেবে। পেন্ডুলামের মতো দোলায় রেখেছিল সেই আশা। কিন্তু নবম ওভারে পয়েন্টে সাকিবের অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে শেনওয়ারি সেই আশায় প্রথম ঘা মারলেন। ৫৩ রানে ৪ উইকেট খোয়ানোর পর এই ধরনের আশা কর্পূরের মতো আপনা-আপনিই কর্পূরের মতো উবে যায়। যাবেই তো। কেননা তখনো রশিদ হাতই ঘোরাননি!
সাকিব আউট হলেন আউটের মতো। কিন্তু তাঁর আগের তিনজন? সৌম্য ও লিটন অবুঝের মতো রান আউট। নবির দ্বিতীয় ও দলের ষষ্ঠ ওভারে। লিটনের আউট যেন সৌম্যর আউটের অ্যাকশন রিপ্লে। তাঁদের আগে তামিম ফিরেছেন মুজিবুরকে শিক্ষা দিতে গিয়ে। রশিদের মতো সমীহ মুজিবুরকেও করতে হলে স্কোর বোর্ডে তালা ঝুলিয়ে দিতে হয়। তামিম তাই শাফল করে স্কয়ারে মারতে গিয়ে বল তুলে দিলেন কভারে। বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগে তামিমকে পকেটে পুরে মুজিবুর তাঁর কাজ সারলেন। চার ওভারে দিলেন মাত্র ২৫ রান। তাঁর থেকেও কৃপণ প্রবীণ মহম্মদ নবি। মাহমুদউল্লাহকে একটা ৬ দিয়েও তাঁর দান খয়রাত মাত্রই ২০।
সিরিজের মীমাংসা আগেই হয়ে যাওয়ায় শেষের এই ম্যাচটা এতটাই এলেবেলে হয়ে পড়ে যে খেলার আগে দুই দেশের জাতীয় সংগীতই গাওয়া হলো না। সে জায়গায় চলল মাঠে চেয়ার পেতে বিজয়ী আফগানদের ফটো সেশন। এই বিস্ময় কাটতে না কাটতে ঘোর লাগিয়ে দিলেন শাহজাদ, মেহেদি মিরাজের প্রথম ওভারেই ১৮ রান নিয়ে। ওভার শেষে মেহেদিকে বড় বেচারা বেচারা লাগল। বেচারাই তো। সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না। নাজমুল প্রথম ধাক্কা দিলেন আম্পায়ারের বদান্যতায়। নাগিন নাচ দেখালেন বটে, তবে রিপ্লেতে আমরা দেখলাম, পায়ে নয়, বলটা লেগেছিল শাহজাদের গ্লাভসে। সেটা অষ্টম ওভার। পরেরটায় নবির আউট অবশ্য ক্লিন। আবু জায়েদের ঠোকা বলটা পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়লেন। সকাল দেখে দিন সব সময় চেনা যায় না। প্রথম ওভারের ধারা বজায় থাকলে ১৪ তম ওভারে ১০০-র বদলে আফগানদের দেড় শ পেরোনোর কথা ছিল।
সেটা হতে না দেওয়ার কৃতিত্ব অবশ্যই নাজমুল, সাকিব, আবু জায়েদ ও আরিফুলের। প্রথম ওভারটা বাদ দিলে ১০ রানের বেশি রান হয়েছে ওভার ১৩,১৪,১৭ ও ১৮তম ওভারে। সাব্বির, মোসাদ্দেক ও রুবেলকে বাদ দিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট যে তিনজনের ওপর ভরসা রাখতে চেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে হতাশ করেন একমাত্র মেহেদি মিরাজ। আবু জায়েদ ও আরিফুলের চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। সাকিব ৪৯৯ তে থমকে ছিলেন। তাঁর শেষ ওভারের শুরুতেই সেই মাইলস্টোন পেরোলেন সাকিব। নাজমুল খেলাটা শেষ করলেন দ্বিতীয় নাগিন ড্যান্স নেচে। সাকিবের সঙ্গেই পাল্লা দিয়েছেন তিনি। চার ওভারে সাকিব ১৫ রান দিয়ে একটা উইকেট পেয়েছেন, নাজমুল একটা রান বেশি দিয়ে একটা উইকেটও বেশি নিয়েছেন।
ঘোর অনিশ্চয়তার খেলা বলেই ক্রিকেট এত জনপ্রিয়। একটা মাত্র বলের খেলাও এই ক্রিকেট। তিন ম্যাচের এই সিরিজে একটাও হাফ সেঞ্চুরি নেই। এটা যেমন আশ্চর্যের, তেমনই অবিশ্বাস্য রশিদের আত্মবিশ্বাস। যদি বলা যায় সিরিজটা হলো রশিদ বনাম বাংলাদেশ, অতিশয়োক্তি নিশ্চয় হবে না। কিন্তু একই সঙ্গে যে জেদ ও পরাক্রম দেখালেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ, দশ ওভারের সম্মান রক্ষার যে লড়াইটা তাঁরা লড়লেন, দেরাদুনবাসীর কাছে তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটুকু না হলে সিরিজটা বর্ণহীন ও ম্যাড়মেড়ে হয়ে যেত। এটুকুই সান্ত্বনা।

Comment